হোসাইন আহমদ ::
শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ছে। এতে কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮ নম্বর পিআইসি প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন ১৮৮১ মিটার বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে একাধিক জায়গায় ধস ও বাঁধে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো হাওরের বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। স্থানীয় কৃষক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর আগে বর্ষা মৌসুমে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ছাইয়া কিত্তি অংশে মহাসিং নদী ও বাঁধের পাশ থেকে ভিট বালু উত্তোলন করা হয়েছিল। এর ফলে ছাইয়া কিত্তা বাঁধের দুই পাশে ২০২৩ অর্থ বছরে ২৭ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয় এবং বাঁধ নির্মাণকালে বাঁধে ধস ও ফাটল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আবারও ২০২৪ অর্থ বছরে একই অংশে বাঁধে ফাটল ও ধস সৃষ্টি হয়। উভয় বছরই পানি উন্নয়ন বোর্ড অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করেন। সরেজমিনে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে আবারও ছাইয়া কিত্তা অংশের বাঁধে ধস ও একাধিক জায়গায় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে নদীর পানি কমে যাওয়ায় বাঁধের মহাসিং নদীর অংশে মাটি ধসে পড়েছে এবং একাধিক জায়গায় ফাসল সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, বাঁধ নির্মাণের আগে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। নদীর গভীর গর্ত ও অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনের কারণে প্রতি বছরই এই বাঁধে নতুন করে ধস দেখা দেয়। এখন বাঁধের সুরক্ষার জন্য গাছের ভল্লি ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করা জরুরি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। ১৮নং পিআইসি কমিটির সাধারণ স¤পাদক সুন্দর আলী বলেন, আমাদের অংশের বাঁধের অংশের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। শেষ পর্যায়ে এসে ছাইয়া কিত্তার অংশে একাধিক ফাটল ও বাঁধে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এই বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আমাদের প্রকল্পের মধ্যে ছিল না। কিন্তু ধসের কারণে এখন নতুন করে কাজ করতে হবে। ১৮নং প্রকল্পের সভাপতি দুদু মিয়া বলেন, আমাদের ১৮ নম্বর পিআইসির অধীনে ১৮৪১ মিটার কাজ কাগজে-কলমে থাকলেও আমাদেরকে অতিরিক্ত আর ২৪১ মিটার কাজ অতিরিক্ত ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসিং নদীর পানি কমে যাওয়ার নদীর পাড়ের অংশে গভীর গর্ত হওয়ায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো হাওরের ফসল হুমকির মুখে থাকবে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব সমস্যা জানালেও স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো পাওয়া যায়নি। হাওরপাড়ের কৃষকরা বলছেন, ধসের কারণে যদি বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে পুরো দেখার হাওরের ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। এই অঞ্চলে বোরো ফসলই প্রধান আয়ের উৎস, যা সঠিকভাবে রক্ষা করা না গেলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তারা দ্রুত বাঁধের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরিকল্পিতভাবে হাওরের পানি সরানোর ফলে নদীর তীরে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা বাঁধের স্থায়িত্ব দুর্বল করে দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ছাইয়া কিত্তি অংশে ফাটল ও ধস হওয়া বাঁধের অংশ পরিদর্শন করেছি। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছে। শীঘ্রই সার্ভে টিমের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
দেখার হাওর
কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁধে ধস ও ফাটল, শঙ্কায় কৃষক
- আপলোড সময় : ০২-০২-২০২৬ ০১:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-০২-২০২৬ ০৯:০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি